ঢাকা টু কিশোরগঞ্জ ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬
আপনি কি আজ ঢাকা টু কিশোরগঞ্জ ট্রেনের সময়সূচী জানতে চান? বাংলাদেশ রেলওয়ের অন্যতম জনপ্রিয় ও ব্যস্ত রুটগুলোর মধ্যে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ রুটগুলির মধ্যে অন্যতম। হাওর অঞ্চলের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে কিংবা ব্যবসায়িক কাজে কিংবা আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই পথে যাতায়াত করে থাকে। সড়ক পথের দীর্ঘ যানজট আর ভোগান্তি এড়াতে ট্রেন ভ্রমণই যাত্রীদের কাছে সবচেয়ে নিরাপদ ও আরামদায়ক মাধ্যম। আপনি যদি ঢাকা টু কিশোরগঞ্জ ট্রেনের সময়সূচী ও টিকিটের মূল্য জানতে চান তাহলে চলুন আলোচনা শুরু করা যাক।
রেলপথে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জের দূরত্ব প্রায় ১০৮ কিলোমিটার। আন্তঃনগর ট্রেনে এই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে মাত্র ৪ ঘণ্টার মতো। স্বল্প সময়ে ও কম খরচে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য এই রুটে চলাচলের ক্ষেএে ট্রেনের বিকল্প নেই বললেই চলে। আজকের এই আর্টিকেলে আহ আমরা ঢাকা টু কিশোরগঞ্জ রুটে চলাচলকারী সকল আন্তঃনগর ট্রেনের সময়সূচী, টিকিটের মূল্য তালিকা, সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও টিকিট কাটার সঠিক নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো।
ঢাকা টু কিশোরগঞ্জ ট্রেনের তালিকা
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে বর্তমানে মোট ৩টি আন্তঃনগর ট্রেন নিয়মিত চলাচল করে। লোকাল বা মেইল ট্রেনের তুলনায় এই আন্তঃনগর ট্রেনগুলো অনেক বেশি দ্রুতগামী ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত। যাত্রীদের সুবিধার্থে দিনের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে এই ট্রেনগুলো শিডিউল করা হয়েছে। ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ রুটের আন্তঃনগর ট্রেনগুলো হলো:
- এগারসিন্ধুর প্রভাতী (ট্রেন নং ৭৩৭)
- কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস (ট্রেন নং ৭৮১)
- এগারসিন্ধুর গোধূলি (ট্রেন নং ৭৪৯)
প্রতিটি ট্রেনের সময়সূচী ও বৈশিষ্ট্য ভিন্ন। আপনার যাত্রার সময় ও পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো একটি ট্রেন বেছে নিতে পারেন ঢাকা টু কিশোরগঞ্জ যাতায়াত করার জন্য।
আরও জেনে নিনঃ এগারো সিন্ধুর গোধুলি ট্রেনের সময়সূচী
ঢাকা টু কিশোরগঞ্জ ট্রেনের সময়সূচী (আন্তঃনগর)
ট্রেন ভ্রমণের ক্ষেত্রে সঠিক সময় জানাটা সবচেয়ে জরুরি। স্টেশনে গিয়ে যাতে অপেক্ষা করতে না হয় বা ট্রেন মিস না হয়। সেজন্য অবশ্যই আপনার আপডেটেড সময়সূচী হাতের কাছে রাখা প্রয়োজন। বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক নির্ধারিত ২০২৬ সালের সর্বশেষ সময়সূচী নিচে ছক আকারে তুলে ধরা হলো। মনে রাখবেন যে, ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে উপস্থিত থাকা বুদ্ধিমানের কাজ।
| ট্রেনের নাম | ট্রেন নং | ছাড়ার সময় (ঢাকা) | পৌঁছানোর সময় (কিশোরগঞ্জ) | সাপ্তাহিক ছুটির দিন |
| এগারসিন্ধুর প্রভাতী | ৭৩৭ | সকাল ০৭:১৫ | সকাল ১১:১০ | বুধবার |
| কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস | ৭৮১ | সকাল ১০:৩০ | দুপুর ১৪:২০ | শুক্রবার |
| এগারসিন্ধুর গোধূলি | ৭৪৯ | সন্ধ্যা ১৮:৪৫ | রাত ২২:৪০ | নেই (প্রতিদিন চলে) |
উপরে উল্লেখিত সময়গুলো সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী মেনে চলা হয়। তবে আবহাওয়া বা রেলওয়ের অনিবার্য কারণে সময়সূচীতে সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সাধারণত পরিবর্তন দেখা যায় না। নিচে প্রতিটি ট্রেন সম্পর্কে ধাপে ধাপে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে:
এগারসিন্ধুর প্রভাতী ট্রেনের বিস্তারিত
যারা খুব সকালে যাত্রা শুরু করতে পছন্দ করেন। তাদের জন্য ‘এগারসিন্ধুর প্রভাতী’ ট্রেনটি সেরা পছন্দ হতে পারে। এই ট্রেনটি ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে যাত্রা শুরু করে এবং বেলা ১১টা ১০ মিনিটে কিশোরগঞ্জ পৌঁছায়। অফিসের কাজ বা দিনের আলোয় হাওর দেখার জন্য এই সময়টি খুবই উপযুক্ত। তবে যাত্রীদের মনে রাখতে হবে যে, সপ্তাহের বুধবার এই ট্রেনটি বন্ধ থাকে।
কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের বিস্তারিত
সকালের ব্যস্ততা শেষ করে একটু ধীরস্থিরভাবে যারা রওনা হতে চান এমন হলে তারা ‘কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস’ বেছে নিতে পারেন। এই ট্রেনটি সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় এবং দুপুর ২টা ২০ মিনিটে কিশোরগঞ্জ স্টেশনে পৌঁছায়। দুপুরের খাবার সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য এটি দারুণ। তবে শুক্রবার এই ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটি থাকে। তাই শুক্রবার ভ্রমণ করতে চাইলে আপনাকে অন্য ট্রেনের টিকিট কাটতে হবে।
এগারসিন্ধুর গোধূলি ট্রেনের বিস্তারিত
যারা সারাদিন অফিস বা ব্যক্তিগত কাজ শেষ করে বিকেলে বা সন্ধ্যায় বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিতে চান তাদের জন্য ‘এগারসিন্ধুর গোধূলি’ বচেয়ে ভালো অপশন। ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় ও রাত ১০টা ৪০ মিনিটে কিশোরগঞ্জ পৌঁছায়। এই ট্রেনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর কোনো সাপ্তাহিক ছুটির দিন নেই। অর্থাৎ সপ্তাহের ৭ দিনই এটি যাত্রীদের সেবা দিয়ে থাকে।
ঢাকা টু কিশোরগঞ্জ ট্রেনের ভাড়া তালিকা
ভ্রমণের বাজেট করার জন্য ট্রেনের টিকিটের দাম জানা খুব জরুরি। বাংলাদেশ রেলওয়ে যাত্রীদের বিভিন্ন শ্রেণীর সামর্থ্য বিবেচনা করে টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করেছে। সাধারণ শোভন সিট থেকে শুরু করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এসি কেবিনসহ সব ধরনের ব্যবস্থাই রয়েছে। ২০২৬ সালের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী ঢাকা টু কিশোরগঞ্জ ট্রেনের ভাড়ার তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| আসন বিভাগ (Seat Class) | টিকিটের মূল্য (টাকা) |
| শোভন (Shovan) | ১৩৫ টাকা |
| শোভন চেয়ার (Shovan Chair) | ১৬০ টাকা |
| প্রথম আসন (First Seat) | ২৪৮ টাকা |
| স্নিগ্ধা (Snigdha – AC) | ৩০৫ টাকা |
| এসি সিট (AC Seat) | ৩৬৮ টাকা |
সতর্কতা: অনলাইনে টিকিট কাটলে মূল ভাড়ার সাথে সার্ভিস চার্জ হিসেবে ২০ টাকা যুক্ত হবে। এছাড়া ভাড়ার সাথে নির্দিষ্ট হারে ভ্যাট প্রযোজ্য হতে পারে। সাধারণত মধ্যবিত্ত যাত্রীদের কাছে শোভন চেয়ার ও আরামপ্রিয় যাত্রীদের কাছে স্নিগ্ধা বা এসি সিট বেশি জনপ্রিয়।
কিভাবে ট্রেনের টিকিট কাটবেন
প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে এখন ট্রেনের টিকিট কাটা অনেক সহজ হয়ে গেছে। লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ঝামেলা এখন আর পোহাতে হয় না। আপনি চাইলে ঘরে বসেই মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে টিকিট কাটতে পারেন। আবার চাইলে সরাসরি স্টেশনে গিয়েও টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন।
অনলাইন টিকিট বুকিং
বর্তমানে অধিকাংশ যাত্রী অনলাইনে টিকিট কাটতে পছন্দ করেন। বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) বা রেলসেবা অ্যাপ ব্যবহার করে খুব সহজেই টিকিট কেনা যায়। প্রক্রিয়াটি নিচে ধাপে ধাপে বলা হলো:
- প্রথমে রেলওয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার মোবাইল নম্বর ও এনআইডি (NID) দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন।
- লগ-ইন করার পর ‘From’ অপশনে Dhaka এবং ‘To’ অপশনে Kishoreganj সিলেক্ট করুন।
- আপনার ভ্রমণের তারিখ, পছন্দসই ট্রেন এবং সিট ক্লাস নির্বাচন করুন।
- ‘Purchase Ticket’ অপশনে ক্লিক করে বিকাশ, নগদ বা ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট সম্পন্ন করুন।
- পেমেন্ট সফল হলে আপনার ইমেইলে বা ড্যাশবোর্ডে টিকিটের কপি চলে আসবে। যা প্রিন্ট করে বা মোবাইলে দেখিয়ে ভ্রমণ করা যাবে।
কাউন্টার থেকে টিকিট ক্রয়
যারা অনলাইনে অভ্যস্ত নন তারা সরাসরি কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টারে গিয়ে টিকিট কাটতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, ঈদ বা ছুটির দিনগুলোতে কাউন্টারে প্রচুর ভিড় থাকে। তাই কাউন্টার থেকে টিকিট কাটতে চাইলে হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে স্টেশনে যাওয়া উচিত। সাধারণত যাত্রার ১০ দিন আগে থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়।
যাত্রীদের জন্য কিছু প্রয়োজনীয় টিপস
ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ ট্রেন ভ্রমণকে আরও নিরাপদ ও আনন্দদায়ক করতে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। যেমন:
- জাতীয় পরিচয়পত্র: ভ্রমণের সময় নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্ম নিবন্ধনের কপি সাথে রাখুন। বর্তমানে টিকিট চেকিংয়ের সময় টিটিই (TTE) পরিচয়পত্র দেখতে চাইতে পারেন।
- সময়ের সচেতনতা: ঢাকার ট্রাফিক জ্যাম একটি বড় সমস্যা। তাই ট্রেন ছাড়ার অন্তত ১ ঘণ্টা আগে বাসা থেকে বের হওয়া বা স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
- লাগেজ: ভ্রমণে অতিরিক্ত ভারী লাগেজ না নেওয়াই ভালো। নিজের ব্যাগ ও মূল্যবান মালামাল নিজ দায়িত্বে সাবধানে রাখুন।
- খাবার ও পানি: ট্রেনের ক্যান্টিনে খাবার পাওয়া যায়, তবে নিজের সাথে হালকা শুকনো খাবার ও পানি রাখা ভালো।
কিশোরগঞ্জ ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
কিশোরগঞ্জ মূলত তার বিশাল হাওর ও ঐতিহাসিক নিদর্শনের জন্য পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। নিকলী হাওর, ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার রোড দেখতে পর্যটকরা সাধারণত বর্ষাকালে ভিড় করেন। বর্ষায় হাওরের থৈ থৈ জলরাশি এক অনবদ্য রূপ ধারণ করে। তবে শীতকালেও কিশোরগঞ্জের গ্রামীণ পরিবেশ ও শান্ত প্রকৃতি খুবই মনোরম। আপনি যদি পর্যটক হিসেবে যান। তবে ছুটির দিনগুলো এড়িয়ে সাধারণ দিনে ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে ভিড় এড়ানো সম্ভব হবে।
প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
ট্রেন ভ্রমণ নিয়ে যাত্রীদের মনে অনেক সাধারণ প্রশ্ন থাকে। এখানে বহুল জিজ্ঞাসিত কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো:
ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ যেতে ট্রেনে কত সময় লাগে?
ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ যেতে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে সাধারণত ৩ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট থেকে ৪ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় লাগে। তবে রুটে ক্রসিং বা সিগন্যালের কারণে সময় কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।
ঢাকা টু কিশোরগঞ্জ ট্রেনের দূরত্ব কত?
রেলপথ অনুযায়ী ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জের দূরত্ব প্রায় ১০৮ কিলোমিটার। এটি বাংলাদেশের অন্যতম ছোট দূরত্বের আন্তঃনগর রুট।
এগারসিন্ধুর গোধূলি কি প্রতিদিন চলে?
হ্যাঁ, এগারসিন্ধুর গোধূলি (ট্রেন নং ৭৪৯) সপ্তাহের প্রতিদিন চলাচল করে। এই ট্রেনের কোনো সাপ্তাহিক ছুটির দিন নেই।
শোভন চেয়ার এর ভাড়া কত?
ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ পর্যন্ত শোভন চেয়ার (Shovan Chair) এর বর্তমান ভাড়া ১৬০ টাকা। এটি সাধারণ যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও জনপ্রিয় ক্লাস।
শুক্রবার কোন ট্রেনটি বন্ধ থাকে?
শুক্রবার কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস (ট্রেন নং ৭৮১) বন্ধ থাকে। তাই শুক্রবার সকালে যেতে চাইলে আপনাকে এগারসিন্ধুর প্রভাতী ট্রেনের টিকিট কাটতে হবে।
শেষ কথা
আশা করি আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আজ আমরা আপনাকে ঢাকা টু কিশোরগঞ্জ ট্রেনের সময়সূচি জানার পাশাপাশি ট্রেনের ভাড়ার তালিকা ও আপনি কিভাবে ঢাকা টু কিশোরগঞ্জের ট্রেনের টিকিট কাটবেন এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছি। তবে ঢাকা টু কিশোরগঞ্জ ট্রেনে যাত্রাকালে অবশ্যই আর কখনো অন্যের দেওয়া খাবার খাবেন না এবং নিজের জিনিসপত্র নিজের কাছে রাখুন। ঢাকা টু কিশোরগঞ্জ বা কিশোরগঞ্জ টু ঢাকা ট্রেন সম্পর্কে যদি আপনার কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই আপনি কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন।