অনলাইনে মোবাইলে ট্রেনের টিকিট কাটার নতুন নিয়ম ২০২৬
কমবেশি সবার হাতেই এখন স্মার্টফোন আছে কিন্তু তা সত্ত্বেও মোবাইলে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। অথবা ঝামেলা কিংবা অবহেলায় কখনো টিকেট কাটা হয় নি। তবে আপনি কি জানেন মাত্র ২ থেকে ৩ মিনিটে চাইলে আপনার হাতে থাকা মোবাইল দিয়ে যেকোনো সময় যেকোনো ট্রেনের টিকিট কাটতে পারবেন ?
হ্যাঁ, বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল তথ্য অনুসারে মোবাইলে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম রয়েছে দুইটি। এই দুইটি নিয়মের যেকোনো একটি অনুসরন করে যেকোনো দিনের টিকিট অনলাইন থেকে ক্রয় করা যাবে সহজেই।
- ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এবং
- অ্যাপ এর মাধ্যমে
তবে যেভাবেই টিকেট কাটার চেষ্টা করেন, আগে আপনার একটি অ্যাকাউন্ট থাকা লাগবে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে। আজকে আপনাদের বিস্তারিত খুটিনাটি একদম শুন্য থেকে শেষ পর্যন্ত শিখিয়ে দেওয়া হবে।
মোবাইলে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম
মোবাইল ফোনের মাধ্যমে টিকেট কাটার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে দুইটি সিস্টেম চালু করেছে যার মধ্যে একটি ওয়েবসাইট এবং অপরটি মোবাইল অ্যাপ। ওয়েবসাইটটি হচ্ছে eticket.railway.gov.bd এবং মোবাইল অ্যাপটির নাম হচ্ছে Rail Seba।
তবে এই দুইটা ছাড়াও আরও একটি গুপন ওয়েবসাইট আপনাদের সাথে শেয়ার করার চেষ্টা করব যেটা অনেকেই জানেন না। ত চলুন শুরু করা যাক।
ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টিকিট কাটার নিয়ম
বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে টিকেট সংগ্রহ করার জন্য প্রথমেই প্রবেশ করতে হবে eticket.railway.gov.bd এই ওয়েবসাইটে। ওপরের লিঙ্কে ক্লিক করলে নিচের মত একটি পেজ চলে আসবে। সর্বপ্রথম কাজ হবে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করা তারপর বাকি ধাপগুলো অনুসরন করা।

১। অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন
প্রথমে উপরের মেনু বার থেকে Register বাটনে ক্লিক করে অ্যাকাউন্ট করে নিন। অ্যাকাউন্ট তৈরি করার জন্য বেশ কিছু তথ্যের প্রয়োজন পড়বে। যেমনঃ
- আবেদনকারীর নাম
- মোবাইল নাম্বার
- জাতীয় পরিচয়পত্র নাম্বার এবং
- জন্ম তারিখ
আরও বিস্তারিত জানতে নিচের ছবিটি খেয়াল করুন। তবে যেকোন সময় যেকোনো প্রয়োজনে আমাদের Contact Us এ দেওয়া নাম্বারে যোগাযোগ করলে তাৎক্ষনিক সহায়তা করার চেষ্টা থাকবে ইনশাআল্লাহ।

বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে “I am not a robot” বাটনে ক্লিক করতে হবে এবং যা যা করতে বলা হয়েছে করে ফেলবেন। সর্বশেষ “Verity” বাটনে ক্লিক করলে ভেরিফাই হয়ে যাবে যদি সকল তথ্য সঠিক হয়ে থাকে।
২। অ্যাকাউন্ট লগইন করুন
অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে গেলে একটি পাসওয়ার্ড সেট করে নিবেন, কেননা এই পাসওয়ার্ড বারবার লগইন করতে কাজে লাগবে। বলে রাখি, মোবাইলে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম অনুসারে অ্যাকাউন্ট লগইন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ।
লগইন করার সময় আপনার মোবাইল নাম্বার এবং পাসওয়ার্ডটি সংরক্ষণে রাখতে হবে। কেননা এই নাম্বার এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে প্রতিবার লগইন করে টিকেট বুকিং করতে পারবেন।
৩। গন্তব্য সিলেকশন করুন
ফাইনালি, সবকিছু সেটাপ হয়ে গেলে এখন শুধু টিকেট ক্রয়ের পালা। প্রথমে যে স্টেশন হতে যাত্রা করবেন সেই ষ্টেশনের নাম FROM এ লিখবেন এবং একইভাবে To তে যে ষ্টেশন পর্যন্ত যাত্রা করবেন সেটা লিখবেন।
উদাহরণস্বরূপ, কেও ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ ষ্টেশনে যাত্রা করতে চাইলে From এ ঢাকা সিলেক্ট করতে হবে এবং To তে ময়মনসিংহ সিলেক্ট করে দিতে হবে।

তারপর ওপরের দেখানো ছবির মত করে যাত্রার তারিখ অর্থাৎ “Date of Journey” এবং সিটের ধরন নির্বাচন করতে হবে। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যাত্রার ১০ দিন আগের টিকিট অগ্রিম কাটা যাবে। তারপর সিটের ধরন বা “Choose Class” এর মধ্যে শোভন চেয়ার, শোভন, স্নিগ্ধা কিংবা এসি যেকোনো একটা সিলেক্ট করে Search Train বাটনে ক্লিক করতে হবে।
৪। মোবাইলে ট্রেনের টিকিট বুকিং
এই বাটনে ক্লিক করার পর টিকেট বুকিং এর অপশন চলে আসবে। এই ধাপে কোন বগিতে সিট নিবেন এবং কতটি সিট নিবেন তা সিলেকশন করে নিতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে সর্বমোট ০৪টি টিকিট ক্রয় করা যাবে।

সিট এবং বগি সিলেকশন শেষ হয়ে গেলে আপনার মোবাইল নাম্বারে একটি ০৪ সংখ্যার অটিপি যাবে। OTP টি টাইপ করে পেমেন্ট করতে হবে। পেমেন্ট এর জন্য সকল ধরনের মোবাইল ব্যাংকিং এলাউড। অর্থাৎ বিকাশ, নগদ, রকেট এবং ব্যাংক সকল মাদ্ধমেই পেমেন্ট করা যাবে।
পেমেন্ট সম্পন্ন হয়ে গেলে টিকেট প্রিন্ট করে নিতে হবে যেটা পরবর্তীতে চেকিংকালে কাজে লাগবে। এখন আর ষ্টেশনে দাড়িয়ে ওরিজিনাল টিকেট সংগ্রহ করতে হয় না। এই টিকেট টি প্রিন্ট করে কিংবা মোবাইলে সংরক্ষন করে দায়িত্বরত টিটিই কে দেখালেই হয়।
অ্যাপের মাধ্যমে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম
বাংলাদেশ রেলওয়ে সম্প্রতি Rail Seba নামে একটি অ্যাপ লঞ্চ করেছে যেটা সহজ ডট কম এর সাথে চুক্তি করে একযুগে কাজ করে আসছে। এই অ্যাপটি Google Play Store এ সার্চ করলেই খুজে পাওয়া যাবে।

প্রথমে এই অ্যাপটি ইন্সটল করে নিতে হবে। ইন্সটল বা ডাউনলোড করার পর বাকি ধাপগুলো আগের মতই সেম। তাই বিস্তারিত না বলে সংক্ষেপে ধাপগুলো তুলে ধরা হলঃ
- অ্যাকাউন্ট রেজিস্ট্রেশন এবং লগইন
- যাত্রা স্টেশন এবং গন্তব্য স্টেশন সিলেকশন
- যাত্রার তারিখ এবং সিটের ধরন সিলেকশন
- ট্রেনের বগি সিলেকশন ও টিকিট বুকিং
- নির্ধারিত টিকেট ভাড়া পেমেন্ট
- টিকিট প্রিন্ট অথবা ডাউনলোড করে সংরক্ষন
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
ট্রেনের টিকেট বিক্রয় কখন থেকে শুরু হয়
সাধারণত ভ্রমণের তারিখের ১০ দিন আগে থেকেই প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে অনলাইন টিকিট বিক্রি শুরু হয়।
অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য কি জাতীয় পরিচয়পত্র লাগবে?
মোবাইলে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম অনুসারে, অ্যাকাউন্ট খোলার সময় এবং যাত্রার সময় ভ্রমণকারীর বৈধ NID অথবা পাসপোর্টের তথ্য প্রয়োজন হয়।
মোবাইলে ট্রেনের টিকিট কাটতে সমস্যা হলে কী করতে হবে?
Rail Sheba অ্যাপের হেল্প সেন্টার, ই-মেইল সাপোর্ট অথবা ১৩৯ নম্বরে কল করে অভিযোগ জানানো যায়। অথবা Banglar Train ওয়েবসাইট থেকে Contact পেজে তাদের WhatsApp নাম্বারে ম্যাসেজ করলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
মোবাইলে ট্রেনের টিকিট কাটার পর প্রিন্ট করতে হবে ?
নতুন নিয়ম অনুসারে ট্রেনের টিকিট প্রিন্ট করার প্রয়োজন নেই। মোবাইল ফোন হতে দেখালেই হবে অথবা প্রিন্ট করে নিয়ে গেলেই হবে।
মোবাইলে কাটা টিকিট বাতিল করা যায় কি ?
হ্যাঁ, তবে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে টিকিট বাতিল করতে হয়। বাতিল করলে কিছু সার্ভিস চার্জ কেটে নেওয়া হয়। এ ব্যাপারে কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।
মোবাইল থেকে ট্রেনের টিকিটের দাম কীভাবে পরিশোধ করতে হয়
সাধারণত বিকাশ, নগদ, রকেট, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড অথবা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করা যায়।
২০২৬ সালে কিভাবে মোবাইলে ট্রেনের টিকিট কাটতে হয়
বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) অথবা “Rail Sheba” মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে ট্রেনের টিকিট কেনা যায়। অ্যাকাউন্ট খুলে লগইন করে যাত্রার তারিখ, গন্তব্য ও ট্রেন নির্বাচন করে অনলাইনে টাকা পরিশোধ করে টিকিট কাটতে হয়।
অনলাইনে কোন কোন ট্রেনের টিকেট পাওয়া যাবে ?
অনলাইনে সকল আন্তঃনগর ট্রেনের এবং এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট পাওয়া যাবে। তবে লোকাল ট্রেনের ক্ষেত্রে অবশ্যই কাউন্টার থেকে ট্রেন ছাড়ার ১ ঘন্টা পূর্বে লাইনে দাড়িয়ে টিকেট সংগ্রহ করতে হবে।

Good