মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, টিকেট ও ভাড়ার তালিকা ২০২৬
মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচি ও ভাড়া সম্পর্কে ২০২৬ সালে জানেন কী? যদি এ সম্পর্কে না জেনেও থেকেও থাকেন সমস্যা নেই আমরা আজ আপনাকে সঠিক তথ্য জানাবো। ঢাকা থেকে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম কিংবা চট্টগ্রাম থেকে রাজধানী ঢাকা যাতায়াতের জন্য অন্যতম নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হলো আন্তঃনগর ট্রেন।
এই রুটে চলাচলকারী জনপ্রিয় ট্রেনগুলোর মধ্যে মহানগর এক্সপ্রেস (Mahanagar Express) অন্যতম হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে। আরামদায়ক ভ্রমণ ও সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য যাত্রীদের কাছে এই ট্রেনের চাহিদা অনেক বেশি। আজকের পোস্টে আমরা মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, বিরতি স্টেশন, ভাড়ার তালিকা ও টিকেট কাটার নিয়ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
আমাদের দেশে যাতায়াতের জন্য রেলওয়েকে সবচেয়ে নিরাপদ ও আরামদায়ক মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে যারা পরিবার নিয়ে দীর্ঘ দূরত্বে ভ্রমণ করে থাকেন তাদের কাছে ট্রেন প্রথম পছন্দ। মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬ সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকলে আপনি খুব সহজেই আপনার ভ্রমণের পরিকল্পনা সাজাতে পারবেন। তাহলে দেরি কেন চলুন আলোচনাটি শুরু করা যাক।
মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের পরিচিতি
মহানগর এক্সপ্রেস বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিলাসবহুল আন্তঃনগর ট্রেন। ট্রেনটি মূলত ঢাকা এবং চট্টগ্রামের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে । মহানগর ট্রেনটির নম্বর হলো ৭২১ (চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা) এবং ৭২২ (ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম)। আপনি যদি ব্যবসায়িক কাজে বা পরিবার নিয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা করে থাকেন। তাহলে মহানগর এক্সপ্রেস আপনার জন্য একটি সর্বোত্তম পছন্দ হতে পারে।
মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬
মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে সপ্তাহে ছয় দিন যাতায়াত করে। এই রুটে ভ্রমণের আগে ট্রেনের ছাড়ার সময় ও পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময় জেনে নেওয়া জরুরি। ট্রেনের শিডিউল জানা থাকলে আপনাকে স্টেশনে গিয়ে অহেতুক দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে না। নিচে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬ সালের তালিকা বিস্তারিত আকারে দেওয়া হলো:
ঢাকা টু চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম টু ঢাকা ট্রেনের সময়
| রুটের নাম | ট্রেনের নম্বর | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় | বন্ধের দিন |
| ঢাকা টু চট্টগ্রাম | ৭২২ | রাত ০৯:২০ | রাত ০৩:৩০ | রবিবার |
| চট্টগ্রাম টু ঢাকা | ৭২১ | দুপুর ১২:৩০ | সন্ধ্যা ০৬:১০ | রবিবার |
যাত্রীদের সুবিধার্থে জানিয়ে রাখা ভালো যে, ট্রেনের সময়সূচী বিশেষ প্রয়োজনে বা বাংলাদেশ রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। তবে বর্তমানে এই সময়সূচী অনুযায়ীই ট্রেনটি নিয়মিত চলাচল করছে।
যাত্রার আগে রেলওয়ের অফিসিয়াল অ্যাপ থেকে সর্বশেষ আপডেট দেখে নেওয়া ভালো। তবে সাধারণত ট্রেনের সময়সূচি কখনো পরিবর্তন হয়না সরকার কর্তৃক বিশেষ নির্দেশনা না থাকলে। অথবা “বাংলার ট্রেন” ওয়েবসাইট থেকে বিস্তারিত তথ্য জেনে নিন।
মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের বিরতি স্টেশনসমূহ
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রা বিরতি দেয়। প্রতিটি স্টেশনে ট্রেনটি কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে যাতে যাত্রীরা কোন ভোগান্তি ছাড়া স্বাচ্ছন্দ্যে নামতে এবং উঠতে পারেন। আপনার গন্তব্য যদি মাঝখানের কোনো স্টেশন হয় তাহলে বিরতি স্টেশনের তালিকাটি আপনার জন্য খুবই প্রয়োজন হবে। নিচে স্টেশনের নাম এবং সময়সূচী বিস্তারিত দেওয়া হলো:
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা (৭২১) বিরতি স্টেশন ও সময়
- চট্টগ্রাম স্টেশন (ছাড়ার সময়): দুপুর ১২:৩০
- কুমিরা: দুপুর ১২:৫৩
- ফেনী: দুপুর ০১:৫৩
- নাঙ্গলকোট: দুপুর ০২:২০
- লাকসাম: দুপুর ০২:৩৫
- কুমিল্লা: দুপুর ০৩:০২
- কসবা: দুপুর ০৩:৩৭
- আখাউড়া: বিকাল ০৪:০৫
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া: বিকাল ০৪:২৬
- আশুগঞ্জ: বিকাল ০৪: Marc ৪৫
- ভৈরব বাজার: বিকাল ০৪:৫৫
- নরসিংদী: বিকাল ০৫:২৮
- ঢাকা বিমানবন্দর: সন্ধ্যা ০৫:৫৩
- ঢাকা কমলাপুর (পৌঁছানোর সময়): সন্ধ্যা ০৬:১০
জেনে নিনঃ চট্টগ্রাম থেকে তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম (৭২২) বিরতি স্টেশন
- ঢাকা কমলাপুর (ছাড়ার সময়): রাত ০৯:২০
- ঢাকা বিমানবন্দর: রাত ০৯:৪৩
- নরসিংদী: রাত ১০:২৮
- ভৈরব বাজার: রাত ১১:০০
- আশুগঞ্জ: রাত ১১:১১
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া: রাত ১১:৩৩
- আখাউড়া: রাত ১১:৪৮
- কসবা: রাত ১২:১৪
- কুমিল্লা: রাত ১২:leg ৪৬
- লাকসাম: রাত ০১:১০
- নাঙ্গলকোট: রাত ০১:২৬
- ফেনী: রাত ০১:৫৩
- কুমিরা: রাত ০২:৫৫
- চট্টগ্রাম স্টেশন (পৌঁছানোর সময়): রাত ০৩:৩০
মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়ার তালিকা ২০২৬
বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী আসনের ধরন বা ক্লাসের ওপর ভিত্তি করে ট্রেনের ভাড়ার হার নির্ধারিত হয়। মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে বিভিন্ন শ্রেণীর আসন রয়েছে। যেমনঃ শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার), এসি সিট ও এসি বার্থ। যারা বাজেট ট্রাভেলার তারা সাধারণত শোভন চেয়ার পছন্দ করেন। অন্যদিকে আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য স্নিগ্ধা বা এসি বার্থ সেরা। নিচে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়ার তালিকা সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে:
ট্রেনের আসন ভিত্তিক ভাড়ার তালিকা:
| আসনের বিভাগ | মূল ভাড়া (টাকা) | ১৫% ভ্যাটসহ মোট ভাড়া (আনুমানিক) |
| শোভন চেয়ার (Shovon Chair) | ৩৪৫ টাকা | ৪০৫ টাকা |
| স্নিগ্ধা (Snigdha/AC Chair) | ৬৬০ টাকা | ৭৭৭ টাকা |
| এসি সিট (AC Seat) | ৭৯০ টাকা | ৯৩২ টাকা |
| এসি বার্থ (AC Berth) | ১২০০ টাকা | ১৩৯৮ টাকা |
সতর্কতা: রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় জ্বালানি তেলের দাম বা সরকারি সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ভাড়ার হার পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে। টিকেট কাটার সময় বর্তমান নির্ধারিত ভাড়া অবশ্যই যাচাই করে নিন। উপরে উল্লেখিত ভাড়া ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গন্তব্যের জন্য প্রযোজ্য।
মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম
বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকেট কাটা আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও আধুনিক হয়ে গেছে। লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ঝামেলা এড়াতে আপনি ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। আপনি মূলত দুইভাবে মহানগর এক্সপ্রেসের টিকেট সংগ্রহ করতে পারেন:
১. অনলাইন টিকেট বুকিং (Online Ticket Booking)
আপনি ঘরে বসেই ‘Rail Sheba’ মোবাইল অ্যাপ অথবা বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) থেকে টিকেট কাটতে পারেন। এর পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো:
- প্রথমে রেলওয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে।
- আপনার এনআইডি (NID) ও মোবাইল নম্বর দিয়ে ভেরিফাই করতে হবে।
- আপনার যাত্রার তারিখ ও গন্তব্য নির্বাচন করুন।
- পছন্দমতো সিট সিলেক্ট করে অনলাইন পেমেন্ট সম্পন্ন করুন।
- আপনি বিকাশ, নগদ, রকেট বা ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারবেন।
- পেমেন্ট সফল হলে আপনার ইমেইলে একটি ই-টিকেট চলে আসবে।
২. কাউন্টার থেকে টিকেট সংগ্রহ
আপনি যদি অনলাইনে টিকেট কাটতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করেন। তাহলে সরাসরি নিকটস্থ রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টারে গিয়ে টিকেট কিনতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, মহানগর এক্সপ্রেস একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ট্রেন। তাই যাত্রার অন্তত ৫-৭ দিন আগে টিকেট কাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কারণ শেষ মুহূর্তে টিকেট পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি
প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি নির্দিষ্ট বন্ধের দিন থাকে। মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলো রবিবার। এই দিনে ট্রেনটি ঢাকা বা চট্টগ্রাম কোনো প্রান্ত থেকেই যাতায়াত করে না। তবে সপ্তাহের বাকি ৬ দিন এটি নিয়মিত সেবা প্রদান করে। তাই আপনার ভ্রমণের পরিকল্পনা অবশ্যই রবিবার বাদে অন্য যেকোনো দিনে করতে হবে। বিশেষ কোনো সরকারি ছুটির দিনে এই শিডিউল পরিবর্তন হতে পারে যা আগে থেকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই জানিয়ে দেয়।
ট্রেন ভ্রমণের প্রয়োজনীয় টিপস
ট্রেন ভ্রমণকে আনন্দদায়ক ও নিরাপদ করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। নিচে কিছু টিপস দেওয়া হলো যা আপনার ভ্রমণে সহায়ক হবে:
- ট্রেন ছাড়ার অন্তত ২০-৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন। যান্ত্রিক বা ট্রাফিক সমস্যার কারণে দেরি হলে ট্রেন মিস করার সম্ভাবনা থাকে।
- আপনার সাথে থাকা মালামাল ও মূল্যবান জিনিসপত্রের প্রতি সজাগ থাকুন।
- ট্রেনের ভেতরে বা রেললাইনে কোনো ধরনের ময়লা আবর্জনা ফেলবেন না। ডাস্টবিন ব্যবহার করে পরিবেশ রক্ষা করুন।
- আপনি যদি অনলাইন থেকে টিকেট কাটেন, তবে টিকেটের একটি প্রিন্ট কপি সাথে রাখুন অথবা ফোনের ই-টিকেটটি প্রস্তুত রাখুন যাতে টিটিই (TTE) চাইলে দেখাতে পারেন।
- ট্রেন দীর্ঘ পথের যাত্রী হওয়ায় নিজের সাথে পর্যাপ্ত পানীয় জল এবং হালকা শুকনো খাবার রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
FAQ
এখানে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী এবং টিকেট সংক্রান্ত কিছু সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো যা যাত্রীরা অনেক সময় প্রশ্ন করে থাকেন:
মহানগর এক্সপ্রেস কি প্রতিদিন চলে?
না, মহানগর এক্সপ্রেস সপ্তাহে ৬ দিন চলাচল করে। রবিবার এর সাপ্তাহিক ছুটি। তবে বিশেষ ঈদ বা উৎসবের সময় অনেক সময় বিশেষ ট্রিপ দেওয়া হয়।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে কত সময় লাগে?
মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে সাধারণত ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে প্রায় ৬ ঘণ্টা থেকে ৬ ঘণ্টা ১০ মিনিট সময় লাগে। তবে ট্রাফিক বা যান্ত্রিক কারণে সামান্য কম-বেশি হতে পারে।
মহানগর এক্সপ্রেসে কি এসি কামরা আছে?
হ্যাঁ, এই ট্রেনে যাত্রীদের আরামের কথা মাথায় রেখে স্নিগ্ধা (AC Chair), এসি সিট এবং এসি বার্থের উন্নত ব্যবস্থা রয়েছে।
অনলাইনে টিকেট কতদিন আগে কেনা যায়?
বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী বর্তমানে যাত্রার ১০ দিন আগে থেকে অনলাইনে টিকেট কেনা যায়। অগ্রিম টিকেট কাটলে সিট পাওয়ার নিশ্চয়তা বেশি থাকে।
শিশুদের টিকেটের ভাড়া কেমন?
সাধারণত ৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য টিকেটের প্রয়োজন হয় না, তবে তাদের জন্য আলাদা সিট বরাদ্দ থাকবে না। ৫ বছরের বেশি হলে পূর্ণ ভাড়া পরিশোধ করতে হয়।
শেষ কথা
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যাতায়াতের জন্য মহানগর এক্সপ্রেস একটি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত নাম। সঠিক সময়সূচী এবং ভাড়ার সঠিক ধারণা থাকলে আপনার ভ্রমণ হবে আরও আনন্দদায়ক ও ঝামেলারহিত। প্রত্যাশা করি আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আজ আমরা আপনাকে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী সম্পর্কে জানানোর পাশাপাশি টিকিট ও ভাড়ার তালিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছি। আর্টিকেলটি সম্পর্কে কোন প্রশ্ন থাকলে নির্দ্বিধায় কমেন্ট করে আমাদের জানান।
