ভৈরব বাজার টু চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬ (আপডেট)
দীর্ঘ প্রায় ২৪৩ কিলোমিটার পথ। সময় লাগে প্রায় ৫ ঘণ্টা। কিন্তু, সত্যি বলতে, ভৈরব বাজার থেকে চট্টগ্রামের এই ট্রেনযাত্রা শুধু একটি ভ্রমণ নয়, বরং এক টুকরো স্বপ্নের মতো। জানালার বাইরে উঁকি দেওয়া সবুজ ফসলের মাঠ, ছোট ছোট গ্রাম, আর মাঝে মাঝে ধলেশ্বরী নদীর চিকচিক করা জল – সব মিলিয়ে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। তবে, যাত্রাটি আরামদায়ক করতে হলে আগে থেকে ভালোভাবে জানতে হবে ভৈরব বাজার টু চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী। এই আর্টিকেলে আমরা সেই সময়সূচী, ভাড়া এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
ভৈরব বাজার টু চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী (আন্তঃনগর)
এই রুটে বর্তমানে চারটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। একটু ভেবে দেখলে বিষয়টা মজার, দিনে চারটি ট্রেনের মধ্যে আবার আলাদা আলাদা ছুটির দিন আছে।
| ট্রেনের নাম | ছুটির দিন | ছাড়ায় সময় (ভৈরব থেকে) | পৌঁছানোর সময় (চট্টগ্রাম) |
|---|---|---|---|
| মহানগর প্রভাতী (৭০৪) | নাই | ০৯ঃ১৮ | ১৪ঃ০০ |
| মহানগর এক্সপ্রেস (৭২২) | শনিবার | ২৩ঃ০৫ | ০৪ঃ৫০ |
| তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪২) | নাই | ০১ঃ১৫ | ০৬ঃ২০ |
| বিজয় এক্সপ্রেস (৭৮৬) | মঙ্গলবার | ০০ঃ০৫ | ০৫ঃ৩০ |
এই টেবিলটা খেয়াল করলে দেখবেন, মহানগর প্রভাতী এবং তূর্ণা এক্সপ্রেস কোনোদিনই ছুটি রাখে না। তবে মহানগর এক্সপ্রেস শনিবার বন্ধ থাকে, আর বিজয় এক্সপ্রেস ছুটি নেয় মঙ্গলবার। এই ব্যাপারটা অনেকেই জানেন না, তাই আমি সবসময় বলি, ট্রেন ধরার আগে একবার ছুটির দিনটা চেক করে নেওয়া ভালো।
সকাল বেলার যাত্রী যদি হন
সকালে রওনা দিতে চাইলে আদর্শ ট্রেন হলো মহানগর প্রভাতী (৭০৪)। সকাল ৯টা ১৮ মিনিটে ভৈরব ছেড়ে দুপুর ২টায় চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। এই ট্রেনে করে যাওয়ার সময় পথের দৃশ্য উপভোগ করা সত্যিই চমৎকার।
রাতের যাত্রী হলে সুবিধা
আপনি যদি রাতে যেতে চান, তাহলে মহানগর এক্সপ্রেস (৭২২), তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪২) বা বিজয় এক্সপ্রেস (৭৮৬) বেছে নিতে পারেন। মহানগর এক্সপ্রেস রাত ১১টা ৫ মিনিটে ছেড়ে ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে পৌঁছে। আর বিজয় এক্সপ্রেস রাত ১২টা ৫ মিনিটে ছেড়ে সকাল ৫টা ৩০ মিনিটে পৌঁছে। তূর্ণা এক্সপ্রেস রাত ১টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে সকাল ৬টা ২০ মিনিটে পৌঁছায়।
ভৈরব বাজার টু চট্টগ্রাম ট্রেনের ভাড়ার তালিকা (আন্তঃনগর)
এখন আসি ভাড়ার ব্যাপারে। ভাড়া নির্ভর করে আপনি কোন আসন বিভাগে যাচ্ছেন তার ওপর। আপনি সরাসরি স্টেশন থেকে টিকিট কাটতে পারেন, অথবা অনলাইনেও কাটা যায়। নিচে টিকিটের দাম দেওয়া হলো।
| আসন বিভাগ | টিকিটের মূল্য |
|---|---|
| শোভন | ২২৫ টাকা |
| শোভন চেয়ার | ২৭০ টাকা |
| প্রথম আসন | ৩৬০ টাকা |
| প্রথম বার্থ | ৫৩৫ টাকা |
| স্নিগ্ধা | ৫১৮ টাকা |
| এসি | ৬১৬ টাকা |
| এসি বার্থ | ৯২০ টাকা |
মূলত, বাজেট বান্ধব যাত্রার জন্য শোভন চেয়ার ভালো, আর আরামের জন্য এসি ক্লাস। তবে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলছে, স্নিগ্ধা ক্লাসে যাত্রাটা খুবই আরামদায়ক হয়।
ভৈরব বাজার টু চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী (মেইল এক্সপ্রেস)
আন্তঃনগর ট্রেন ছাড়াও এই রুটে আরও কয়েকটি মেইল ও এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করে। এগুলোতে যাত্রা সাধারণত সময় বেশি লাগে, কিন্তু ভাড়া কম। যারা সময় নিয়ে ধীরেসুস্থে যেতে চান, তাদের জন্য এগুলো ভালো অপশন।
| ট্রেনের নাম | ছুটির দিন | ছাড়ায় সময় (ভৈরব থেকে) | পৌঁছানোর সময় (চট্টগ্রাম) |
|---|---|---|---|
| চট্টগ্রাম মেল (০২) | নাই | ০০ঃ৫৭ | ০৭ঃ২৫ |
| কর্ণফুলী এক্সপ্রেস (০৪) | নাই | ১১ঃ২৯ | ১৮ঃ০০ |
| ময়মনসিংহ এক্সপ্রেস (৩৮) | নাই | ১২ঃ২২ | ২১ঃ০০ |
| চাটলা এক্সপ্রেস (৬৮) | মঙ্গলবার | ১৪ঃ৫৪ | ২০ঃ৫০ |
এই ট্রেনগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম মেল (০২) সবচেয়ে পুরনো ও জনপ্রিয়। যদি কখনো এই ট্রেনের বিস্তারিত সময়সূচী জানতে চান, তাহলে চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনের সময়সূচী দেখে নিতে পারেন। আরেকটি ট্রেন হলো কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, যা সকাল ১১টা ২৯ মিনিটে ছেড়ে সন্ধ্যা ৬টায় পৌঁছে। এই ট্রেনেও ভ্রমণ বেশ আরামদায়ক।
ভৈরব বাজার থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার অন্যান্য উপায়
আমি সবসময় বলি, ট্রেনই সবচেয়ে ভালো মাধ্যম। কিন্তু কখনো কখনো জরুরি প্রয়োজনে বাসও ধরতে হয়। সড়কপথে ভৈরব থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব প্রায় ১৮০ কিলোমিটার। বাসে সাধারণত ৪-৫ ঘণ্টা লাগে। তবে ট্রেনের মতো আরাম ও নিরাপত্তা বাসে পাওয়া যায় না। তাই, যদি সময় থাকে, ট্রেনই বেছে নেওয়া উচিত। আর যারা ভৈরব থেকে ঢাকায় যাওয়ার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী জেনে রাখা ভালো। অনেকেই ভৈরব থেকে ঢাকা হয়ে চট্টগ্রাম যান, কিন্তু সেটা সময় ও অর্থের অপচয়। সরাসরি ভৈরব থেকে চট্টগ্রামের ট্রেনই সবচেয়ে ভালো অপশন।
ট্রেনে ভ্রমণের কিছু টিপস
- টিকিট আগেভাগে কাটুন: ছুটির দিন বা উৎসবের সময় টিকিট পাওয়া কঠিন। তাই অনলাইনে বা স্টেশন থেকে আগেভাগে টিকিট কেটে রাখা ভালো।
- খাবার সঙ্গে নিন: ট্রেনের যাত্রা দীর্ঘ, তাই হালকা খাবার ও পানি সঙ্গে রাখা জরুরি।
- মোবাইল চার্জ রাখুন: দীর্ঘ পথে মোবাইল চার্জ শেষ হয়ে যেতে পারে, তাই পাওয়ার ব্যাংক সঙ্গে রাখুন।
- জানালার পাশের সিট চয়েজ করুন: যারা প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য জানালার পাশের সিট সবচেয়ে ভালো।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা
গত বছর আমি ভৈরব থেকে চট্টগ্রাম যাই মহানগর প্রভাতীতে। সকালের ট্রেন, চা-বিস্কুট খেতে খেতে পথের দৃশ্য দেখা সত্যিই মনোমুগ্ধকর। ট্রেনটি যখন কিশোরগঞ্জের ফসলের মাঠ পেরোয়, তখন মনে হয় কোনো সিনেমার শট দেখছি। আর যখন চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় আসা, তখন বোঝা যায়, আধুনিক শহরের কাছাকাছি চলে এসেছি। এই ভ্রমণের অভিজ্ঞতা কখনো ভোলার নয়।
ভৈরব থেকে চট্টগ্রাম ট্রেন যাত্রার সেরা সময়
আসলে, সারা বছরই চট্টগ্রাম যাওয়া যায়। তবে শীতকাল (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি) সবচেয়ে ভালো সময়। এই সময় আবহাওয়া মনোরম থাকে, আর ট্রেনে ভ্রমণও আরামদায়ক হয়। বর্ষাকালে ট্রেনে যেতে সমস্যা হয় না, তবে রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা থাকতে পারে। তাই এই সময় সাবধানে থাকা ভালো।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: ভৈরব বাজার থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনে যেতে কত সময় লাগে?
উত্তর: সাধারণত প্রায় ৪ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট থেকে ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় লাগে, ট্রেনের ওপর নির্ভর করে। যেমন মহানগর প্রভাতী ৪ ঘণ্টা ৪২ মিনিটে এবং তূর্ণা এক্সপ্রেস ৫ ঘণ্টা ৫ মিনিটে পৌঁছায়।
প্রশ্ন: ভৈরব বাজার টু চট্টগ্রাম ট্রেনের শোভন চেয়ারের ভাড়া কত?
উত্তর: বর্তমানে শোভন চেয়ারের ভাড়া ২৭০ টাকা। এই টিকিটে আপনি চেয়ারের সুবিধা পাবেন এবং যাত্রাটি আরামদায়ক হবে।
প্রশ্ন: ভৈরব থেকে চট্টগ্রামের ট্রেনের ছুটির দিনগুলো কী কী?
উত্তর: মহানগর প্রভাতী ও তূর্ণা এক্সপ্রেসের কোনো ছুটির দিন নেই। মহানগর এক্সপ্রেস শনিবার বন্ধ থাকে, আর বিজয় এক্সপ্রেস মঙ্গলবার ছুটি নেয়। মেইল ট্রেনগুলোর মধ্যে চাটলা এক্সপ্রেস মঙ্গলবার ছুটি থাকে।
প্রশ্ন: ভৈরব বাজার থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনের এসি বার্থের টিকিটের দাম কত?
উত্তর: এসি বার্থের টিকিটের মূল্য ৯২০ টাকা। এই টিকিটে আপনি এসি কেবিনের বার্থ পাবেন, যা দীর্ঘ যাত্রার জন্য খুব আরামদায়ক।
প্রশ্ন: ভৈরব বাজার টু চট্টগ্রাম ট্রেনের অনলাইন টিকিট কিভাবে কাটব?
উত্তর: বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কাটতে পারেন। টিকিট কাটার জন্য প্রথমে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে, তারপর আপনার যাত্রার তারিখ ও ট্রেন নির্বাচন করে পেমেন্ট সম্পন্ন করলেই টিকিট কনফার্ম হবে।
প্রশ্ন: ভৈরব বাজার থেকে চট্টগ্রাম যেতে সবচেয়ে ভালো ট্রেন কোনটি?
উত্তর: এটি আপনার প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে। আপনি যদি সকালে যেতে চান, তাহলে মহানগর প্রভাতী (৭০৪) সবচেয়ে ভালো। আর যদি রাতে যেতে চান এবং আরাম চান, তাহলে তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪২) বা বিজয় এক্সপ্রেস (৭৮৬) বেছে নিতে পারেন। তূর্ণার এসি ক্লাসের ভাড়া কিছুটা কম, আর বিজয়ের টিকিট সহজে পাওয়া যায়।
প্রশ্ন: চাটলা এক্সপ্রেস কি ভৈরব বাজার থেকে চট্টগ্রাম যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, চাটলা এক্সপ্রেস (৬৮) ভৈরব বাজার থেকে চট্টগ্রাম যায়। এটি একটি মেইল ট্রেন, যা বিকেল ২টা ৫৪ মিনিটে ভৈরব ছেড়ে সন্ধ্যা ৮টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছে। তবে এই ট্রেন মঙ্গলবার বন্ধ থাকে।





