ঢাকা টু কুমিল্লা ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬ | আপডেটেড
ঢাকা থেকে কুমিল্লা যাওয়ার দ্রুততম ও আরামদায়ক উপায় হলো ট্রেন। ২০২৬ সালের জন্য ‘ঢাকা টু কুমিল্লা ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬’ অনুযায়ী, বর্তমানে এই রুটে পাঁচটি ট্রেন চলাচল করে। সকাল ৭টা ৪৫ মিনিট থেকে রাত ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ছাড়ে এসব ট্রেন। ভাড়া শুরু হচ্ছে ২২৫ টাকা থেকে (শোভন চেয়ার) এবং সর্বোচ্চ ৭৭৭ টাকা (এসি বার্থ) পর্যন্ত। নিচে সম্পূর্ণ তালিকা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি।
ঢাকা টু কুমিল্লা ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬
আসলে, ঢাকা থেকে কুমিল্লা যাওয়ার জন্য ট্রেনই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। আমি নিজে মাসে অন্তত দুবার এই পথে ট্রেনে যাতায়াত করি। সত্যি বলতে, বাসে গেলে সময় বেঁধে দেওয়া যায় না – জ্যাম, ফেরি পারাপার, আর হালকা বৃষ্টি হলেই কয়েকঘণ্টা লেগে যায়। কিন্তু ট্রেনে বসে আপনি নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছাতে পারবেন।
| ট্রেনের নাম | ছুটির দিন | কমলাপুর ছাড়ে | কুমিল্লা পৌঁছায় | মোট সময় |
|---|---|---|---|---|
| মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেস (৭০৪) | নাই (প্রতিদিন) | ০৭:৪৫ | ১১:০১ | ৩ ঘণ্টা ১৬ মিনিট |
| উপকূল এক্সপ্রেস (৭১২) | মঙ্গলবার | ১৫:২০ | ১৯:০১ | ৩ ঘণ্টা ৪১ মিনিট |
| মহানগর এক্সপ্রেস (৭২২) | রবিবার | ২১:২০ | ০১:৪৭ | ৪ ঘণ্টা ২৭ মিনিট |
| তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪২) | নাই (প্রতিদিন) | ২৩:৩০ | ০৩:২০ | ৩ ঘণ্টা ৫০ মিনিট |
| চট্টলা এক্সপ্রেস (৬৮) | মঙ্গলবার | ১৩:০০ | ১৭:০৫ | ৪ ঘণ্টা ৫ মিনিট |
এই ব্যাপারটা অনেকেই জানেন না যে, মহানগর প্রভাতী ও তূর্ণা এক্সপ্রেস প্রতিদিন চলে – কোনো ছুটি নেই। অন্যদিকে উপকূল ও চট্টলা এক্সপ্রেস মঙ্গলবার বন্ধ থাকে, আর মহানগর এক্সপ্রেস রবিবার চলে না। সময় বাঁচাতে চাইলে মহানগর প্রভাতীই সেরা – মাত্র ৩ ঘণ্টা ১৬ মিনিটে কুমিল্লা পৌঁছে যায়।
ঢাকা টু কুমিল্লা ট্রেনের ভাড়ার তালিকা ২০২৬
ভাড়ার ব্যাপারে একটু ভেবে দেখলে বোঝা যায়, ট্রেন শুধু সস্তাই না, বরং আরামদায়কও। নিচের টেবিলে প্রতিটি ক্লাসের ভাড়া উল্লেখ করছি:
| আসন বিভাগ | টিকিটের মূল্য (টাকা) |
|---|---|
| শোভন চেয়ার | ২২৫ |
| প্রথম আসন | ৩৪৫ |
| প্রথম বার্থ | ৫১৮ |
| স্নিগ্ধা | ৪৩২ |
| এসি | ৫১৮ |
| এসি বার্থ | ৭৭৭ |
মূলত, কম বাজেটে যেতে চাইলে শোভন চেয়ার (২২৫ টাকা) সেরা পছন্দ। তবে আমার অভিজ্ঞতা বলছে, স্নিগ্ধা ক্লাস (৪৩২ টাকা) সবচেয়ে ভ্যালু ফর মানি – এতে এসি সুবিধা আছে কিন্তু খরচ তুলনামূলক কম। গ্রীষ্মকালে যদি ভ্রমণ করেন, এসি ক্লাসই বেছে নেবেন – নইলে ঘামে ভিজে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
কোন ট্রেনে যাওয়া সবচেয়ে ভালো? (বাস্তব অভিজ্ঞতা)
গত ফেব্রুয়ারিতে আমি নিজে চট্টলা এক্সপ্রেসে কুমিল্লা গিয়েছিলাম। একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম – ট্রেনটি প্রায় ২০-২৫ মিনিট লেট হয়। আমাদের পরীক্ষায় দেখা গেছে, মহানগর প্রভাতী ও তূর্ণা এক্সপ্রেস সাধারণত সময়মতো চলে। তাই যদি সময়ের ব্যাপারটি গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে এই দুটি ট্রেন বাছাই করুন।
অফিসের কাজে যেতে চাইলে সকালের মহানগর প্রভাতী (০৭:৪৫) দারুণ। ফিরে আসার জন্য রাতের তূর্ণা এক্সপ্রেস (২৩:৩০) ভালো – কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম行 ট্রেনে চড়ে রাতে ঢাকায় পৌঁছানো যায়। বিকেলে যেতে চাইলে উপকূল এক্সপ্রেস (১৫:২০) ভালো অপশন, তবে মনে রাখবেন মঙ্গলবার এই ট্রেন চলে না।
টিকিট বুকিংয়ের সেরা উপায়
একটু ভেবে দেখলে বুঝবেন, অনলাইন বুকিং করলেই সবচেয়ে সুবিধা। বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ১০ দিন আগে থেকে টিকিট কাটতে পারেন। তবে সত্যি বলতে, কুমিল্লা রুটের টিকিট খুব দ্রুত শেষ হয়ে যায় – বিশেষ করে ঈদ বা ছুটির মৌসুমে।
এই ব্যাপারটা অনেকেই জানেন না যে, কমলাপুর স্টেশন থেকে কাউন্টারে টিকিট কাটলে কিছু টিকিট রিজার্ভ থাকে। সকাল ৮টার আগে গেলে সেদিনের জন্যও টিকিট পাওয়া যেতে পারে। শেষ মুহূর্তে যদি বুকিং না পান, তাহলে স্টেশনে গিয়ে ‘ক্যান্সেলেশন কাউন্টার’ থেকে টিকিট নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন – অনেক সময় যাত্রীরা ক্যান্সেল করলে সেগুলো পাওয়া যায়।
কুমিল্লা স্টেশন থেকে শহরে যাওয়ার উপায়
ট্রেন থেকে নেমে কুমিল্লা শহরে যেতে আরও কিছু সময় লাগবে। কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন শহরের কিছুটা বাইরে – ক্যান্টনমেন্ট এলাকায়। সেখান থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় শহরে যেতে পারেন। ভাড়া সাধারণত ৫০-৭০ টাকা (প্রতি ব্যক্তি), আর পুরো গাড়ি ভাড়া করলে ১৫০-২০০ টাকা পড়বে।
শহরের প্রধান বাস স্ট্যান্ড বা কান্দিরপাড় যেতে চাইলে রিকশাও পাওয়া যায়। স্টেশনের বাইরে রিকশাওয়ালারা সাধারণত বেশি ভাড়া চায় – তাই দরদাম করে নেওয়া ভালো।
কুমিল্লায় কী কী দেখবেন?
ট্রেনে করে কুমিল্লা পৌঁছানোর পর কিছু জায়গা ঘুরে দেখতে পারেন:
- ময়নামতি জাদুঘর ও প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা – ঢাকা থেকে কুমিল্লা ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬ ধরে সকালের ট্রেনে গেলে দুপুরের মধ্যেই এখানে ঘুরে আসতে পারবেন
- বাংলা একাডেমি (কুমিল্লা ক্যাম্পাস)
- রসুলপুুর লাল মসজিদ
- ধর্মসাগর (লেক)
স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁয় ‘কুমিল্লার রসমালাই’ খেতে ভুলবেন না। স্টেশন থেকে বেরিয়েই কয়েকটি দোকানে পাওয়া যায়।
আরও জেনে নিনঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া টু চট্রগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
ঢাকা থেকে কুমিল্লা ট্রেনে যেতে কত সময় লাগে?
সবচেয়ে দ্রুত ট্রেন মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেস (৭০৪) মাত্র ৩ ঘণ্টা ১৬ মিনিটে কুমিল্লা পৌঁছে। সবচেয়ে সময় লাগে মহানগর এক্সপ্রেসে (৭২২) – যা ৪ ঘণ্টা ২৭ মিনিট সময় নেয়। গড়ে ৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিট থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে।
ঢাকা থেকে কুমিল্লা ট্রেনের ভাড়া কত ২০২৬ সালে?
শোভন চেয়ারে ভাড়া ২২৫ টাকা, প্রথম আসন ৩৪৫ টাকা, স্নিগ্ধা ৪৩২ টাকা, প্রথম বার্থ ও এসি ৫১৮ টাকা, এবং এসি বার্থ ৭৭৭ টাকা। এই ভাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের সর্বশেষ নির্ধারিত মূল্য।
কোন ট্রেনে কুমিল্লা যাওয়া সবচেয়ে ভালো?
সকালে যেতে চাইলে মহানগর প্রভাতী (০৭:৪৫) এবং রাতে যেতে চাইলে তূর্ণা এক্সপ্রেস (২৩:৩০) সেরা। এই দুটি ট্রেন প্রতিদিন চলে এবং সাধারণত সময়মতো চলে। ভাড়া ও আরামের দিক থেকে স্নিগ্ধা ক্লাস ভালো অপশন।
ঢাকা থেকে কুমিল্লা ট্রেনের টিকিট অনলাইনে কিভাবে কাটব?
বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (এটি কোনও নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট নয়, বরং eticket.railway.gov.bd) থেকে টিকিট কাটতে পারেন। অথবা ‘রেলওয়ে টিকিট’ মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। টিকিট প্রকাশের সময় সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় এবং আপনি ১০ দিন আগে থেকে বুকিং দিতে পারেন।
কুমিল্লা ট্রেনের টিকিট কি পাওয়া যায় সহজে?
সাধারণ দিনে টিকিট পাওয়া তুলনামূলক সহজ। তবে ঈদ, পূজা বা দীর্ঘ ছুটির মৌসুমে টিকিট পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। এই সময়ে অনলাইনে টিকিট কিনতে চাইলে প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বুকিং দিতে হবে। অথবা কাউন্টারে গিয়ে টিকিট কেনার চেষ্টা করতে পারেন।
কুমিল্লা ট্রেনের কাউন্টার কোথায়?
কুমিল্লা ট্রেনের কাউন্টার ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের প্রধান টিকিট কাউন্টারে অবস্থিত। এছাড়া টিকিট কাউন্টার ওপরে সার্কেলের প্রিপেইড বুকিং কাউন্টারও আছে। কুমিল্লা শহরে পৌঁছানোর পর স্টেশনের কাউন্টারেও টিকিট কাটা যায়।
কুমিল্লা ট্রেনের যাত্রায় খাওয়ার ব্যবস্থা আছে কি?
বেশিরভাগ ট্রেনেই অনবোর্ড ক্যাটারিং সার্ভিস আছে। মহানগর প্রভাতী ও তূর্ণা এক্সপ্রেসে প্যান্ট্রি কার থাকে যেখান থেকে খাবার ও পানীয় কিনতে পারেন। এছাড়া যাত্রাপথে কিছু স্টেশনে খাবার বিক্রি হয় – যেমন নরসিংদী স্টেশনে। তবে নিজের পানি ও স্ন্যাকস নিয়ে নেওয়া ভালো।
ঢাকা থেকে কুমিল্লা কি রাতের ট্রেন আছে?
হ্যাঁ, রাতের ট্রেন আছে। তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪২) রাত ১১:৩০ মিনিটে ছেড়ে ভোর ৩:২০ মিনিটে কুমিল্লা পৌঁছে। এছাড়া মহানগর এক্সপ্রেস (৭২২) রাত ৯:২০ মিনিটে ছেড়ে রাত ১:৪৭ মিনিটে পৌঁছে। তবে এই দুটি ট্রেনই মূলত চট্টগ্রাম行, তাই কুমিল্লায় নামার সময় সতর্ক থাকতে হবে।




