কুষ্টিয়া টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬
আমার বাবা প্রায়ই বলতেন, “ট্রেনে যাত্রা মানে যেন সময়ের সাথে বন্ধুত্ব করা।” ছোটবেলায় কুষ্টিয়া থেকে রাজশাহী যাওয়ার কথা মনে পড়ে। তখন মনে হত, যেন একটা দীর্ঘ সফর। কিন্তু এখন বাংলাদেশ রেলওয়ের উন্নতির ফলে সেই পথটুকু অনেক কম সময়ে পৌঁছে যাওয়া যায়। আপনি যদি কুষ্টিয়া টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া নিয়ে তথ্য খুঁজছেন, তাহলে সঠিক জায়গায় এসেছেন। আজ আমি একজন সাংবাদিক ও নিয়মিত ভ্রমণকারী হিসেবে আপনাদের কাছে রেলওয়ের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী সম্পূর্ণ বিবরণ তুলে ধরছি।
এই রুটে প্রতিদিন দুইটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। যারা ব্যবসা বা পড়াশোনার জন্য নিয়মিত যাতায়াত করেন, তাদের জন্য এই ট্রেনগুলো সময় বাঁচানোর একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। বিশেষ করে মধুমতি এক্সপ্রেস এবং টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস দুইটি ভিন্ন সময়ে ছাড়ে, যা যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক। নিচে ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়ার বিস্তারিত দেওয়া হলো।
কুষ্টিয়া টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী
ভ্রমণের জন্য আন্তঃনগর ট্রেন’ই প্রায় সব ট্রাভেলারদের জন্য সেরা পছন্দ; এর প্রধান কারণ হচ্ছে আন্তঃনগর ট্রেন অনেক আরামদায়ক এবং ব্রেক স্টেশনগুলোতে না থেমে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছে যায়। গত মাসে আমার এক বন্ধু রাজশাহী থেকে কুষ্টিয়া এসেছিল ব্যবসায়িক কাজে। সে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসে চড়ে এসে খুব প্রশংসা করছিল ট্রেনের সময়ানুবর্তিতার। কুষ্টিয়া টু রাজশাহী রুটে যে ২টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে, তাদের সম্পূর্ণ সময়সূচী নিচের টেবিলে দেওয়া হলো।
| ট্রেনের নাম | ছুটির দিন | কুষ্টিয়া ছাড়ার সময় | রাজশাহী পৌঁছানোর সময় |
|---|---|---|---|
| মধুমতি এক্সপ্রেস (৭৫৫) | বৃহস্পতিবার | ১৯:৪০ | ২২:৪০ |
| টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস (৭৮৩) | মঙ্গলবার | ১০:২৯ | ১৩:১৫ |
উল্লেখ্য, এই সময়সূচী বাংলাদেশ রেলওয়ের ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী সঠিক। তবে সরকারি ছুটির দিন বা বিশেষ পরিস্থিতিতে কিছু পরিবর্তন হতে পারে। ভ্রমণের আগে একবার স্টেশন বা রেলওয়ের হেল্পলাইন থেকে যাচাই করে নেওয়াটা নিরাপদ।
জেনে নিনঃ সিলেট টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া
কুষ্টিয়া টু রাজশাহী ট্রেনের ভাড়া তালিকা
ট্রেনের ভাড়া নির্ধারণ করে বাংলাদেশ রেলওয়ে নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী। এবছর ভাড়া হালনাগাদ করা হলেও সাধারণ যাত্রীদের জন্য এটি এখনও সাশ্রয়ী। নিচের টেবিলে সব ক্যাটাগরির টিকিটের মূল্য উল্লেখ করা হলো। এই মূল্যে ১৫% ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
| আসন বিভাগ | টিকিটের মূল্য (১৫% ভ্যাট সহ) |
|---|---|
| শোভন | ১৪৫ টাকা |
| শোভন চেয়ার | ১৭৫ টাকা |
| প্রথম সিট | ২৭১ টাকা |
| স্নিগ্ধা | ৩৩৪ টাকা |
আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আপনি যদি স্বল্প দূরত্বের যাত্রী হন, তাহলে শোভন চেয়ার বা শোভন সিটেই আরাম পাওয়া যায়। কিন্তু পরিবার নিয়ে ভ্রমণ করলে বা গুরুত্বপূর্ণ কাজে গেলে স্নিগ্ধা ক্লাস টিকিট কিনতে পারেন। এতে আরামদায়ক সিট ও পর্দা দিয়ে আলাদা জায়গা পাওয়া যায়। মনে রাখবেন, কিছুদিন আগে বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে স্নিগ্ধায় চড়েছিলাম। ভাড়া একটু বেশি হলেও পরিষেবা অনেক ভালো — বিশেষ করে কন্ডিশনারের ঠান্ডা বাতাস আর আধুনিক সিটের সুবিধা চোখে পড়ার মতো।
রাজশাহী ভ্রমণের আগে জেনে নিন
কুষ্টিয়া টু রাজশাহী রুটের ট্রেনগুলোতে সাধারণত সময়মতো ট্রেন ছাড়ার খবর থাকে। তবে ট্রেনের ঘোষণা কিংবা স্টেশনের নোটিশ বোর্ড চোখে রাখবেন। বিশেষ করে সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতে ভিড় বেশি থাকে। গত ইদুল ফিতরের সময় স্টেশনে মানুষের লাইন দেখে মনে হচ্ছিল, এই রুটের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। আপনি অনলাইনেও টিকিট বুকিং করতে পারেন। বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই পে-মেন্ট করে টিকিট কনফার্ম করতে পারবেন।
গত বছর আমি একবার কুষ্টিয়া থেকে রাজশাহী যাচ্ছিলাম মধুমতি এক্সপ্রেসে। স্টেশন থেকে টিকিট কিনতে যে সময় লেগেছিল, সেটা মনে করে শেষবার অনলাইনে বুকিং দিয়ে ছিলাম। সত্যিই খুব সহজ প্রক্রিয়া। শুধু তাই নয়, অনলাইনে টিকিট কাটার আগে ডেট এবং ক্যাটাগরি নির্বাচন করে দ্রুত পেমেন্ট করতে পারেন।
কুষ্টিয়া টু রাজশাহী ভ্রমণের সুবিধাজনক দিক
এই রুটের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ট্রেনের নির্ভরযোগ্যতা। প্রতিদিন দুটি ট্রেন চলাচল করায় যাত্রীদের বিকল্প থাকে। সকালে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস আর রাতে মধুমতি এক্সপ্রেস — দুই সময়ের জন্যই আলাদা আলাদা চাহিদা মেটায়। এছাড়াও এই ট্রেনগুলোর ভাড়া যেমন সহনীয়, তেমনি সময়ও সাশ্রয়ী। গড়ে ২ থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যাওয়া যায়।
এছাড়া ট্রেনের অভ্যন্তরীন পরিষেবাও মোটামুটি ভালো। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কুলিং সিস্টেম কাজ করে, আর আসনগুলো আগের মতো পুরোনো না আধুনিক করা হয়েছে। একবার মনে পড়ে, বর্ষাকালে রাজশাহী যাচ্ছিলাম, তখন বাইরে বৃষ্টি আর ট্রেনের জানালা দিয়ে শীতল বাতাস পুরো যাত্রাটাই স্মরণীয় হয়ে আছে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
কুষ্টিয়া টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী কি হালনাগাদ আছে?
হ্যাঁ, এই আর্টিকেলে ২০২৬ সালের বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী সময়সূচী দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারি ছুটির দিন বা বিশেষ ঘটনায় সময়সূচী পরিবর্তন হতে পারে। ভ্রমণের আগে স্টেশন বা রেলওয়ে হেল্পলাইন থেকে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো।
কুষ্টিয়া টু রাজশাহী ট্রেনের ভাড়া কেমন?
বর্তমানে ভাড়া ১৪৫ টাকা (শোভন) থেকে শুরু করে ৩৩৪ টাকা (স্নিগ্ধা) পর্যন্ত। সব ভাড়ায় ১৫% ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত। নিবিড় ভাড়া তালিকা উপরের সেকশনে দেওয়া হয়েছে।
এই রুটে কি কোনো লোকাল ট্রেন বা কমিউটার ট্রেন চলে?
না, কুষ্টিয়া টু রাজশাহী রুটে বর্তমানে শুধু আন্তঃনগর ট্রেন (মধুমতি এক্সপ্রেস ও টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস) চলাচল করে। লোকাল ট্রেন বর্তমানে বন্ধ আছে।
টিকিট অনলাইনে বুকিং করা যায়?
হ্যাঁ, আপনি বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই টিকিট বুকিং ও পেমেন্ট করতে পারেন। স্টেশন থেকেও টিকিট পাওয়া যায়, তবে অনলাইনে আগে বুকিং করলে সুবিধা হয়।
মধুমতি এক্সপ্রেস ও টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের মধ্যে পার্থক্য কী?
প্রধান পার্থক্য সময়ে এবং ছুটির দিনে। মধুমতি এক্সপ্রেস রাতে (১৯:৪০) ছাড়ে এবং বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকে। টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস সকালে (১০:২৯) ছাড়ে এবং মঙ্গলবার বন্ধ থাকে। দুইটিই আন্তঃনগর ট্রেন এবং একই রুটে চলে।
রাজশাহী পৌঁছানোর সময় কি সব ট্রেনের একই?
না, মধুমতি এক্সপ্রেস পৌঁছায় ২২:৪০ (প্রায় ৩ ঘণ্টায়) এবং টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস পৌঁছায় ১৩:১৫ (প্রায় ২ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটে)।
ট্রেনের স্নিগ্ধা ক্যাটাগরিতে কি খাবার দেওয়া হয়?
স্নিগ্ধা ক্যাটাগরিতে সাধারণত খাবার দেওয়া হয় না (শুধু সিট সুবিধা থাকে)। তবে যাত্রার সময় নিজের হালকা নাস্তা নিতে ভুলবেন না। কিছু ট্রেনে এখন পানীয় ও স্ন্যাকস বিক্রি হয়।



