কুমিল্লা টু নোয়াখালী ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬ (আপডেট)
কুমিল্লা থেকে নোয়াখালী যাতায়াতের জন্য ট্রেন সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও আরামদায়ক মাধ্যমগুলোর একটি। দীর্ঘদিনের যাত্রীসাধারণ্যের দাবির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে এই রুটে ট্রেন চলাচলের সময়সূচী ও ভাড়ার একটি স্থিতিশীল কাঠামো তৈরি করেছে। ২০২৬ সালের আপডেটেড তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা টু নোয়াখালী ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া জানলে আপনি আপনার ভ্রমণটি আগে থেকেই পরিকল্পনা করতে পারবেন এবং অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়াতে পারবেন। নিচে আমি এই রুটের সম্পূর্ণ যাত্রা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরছি, যা একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক ও যাত্রী হিসেবে আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও রেলওয়ের অফিসিয়াল সূত্রের উপর ভিত্তি করে প্রস্তুত।
কুমিল্লা থেকে নোয়াখালী ট্রেনের বর্তমান তালিকা ও সময়সূচী
২০২৬ সালের শুরুতে বাংলাদেশ রেলওয়ে কুমিল্লা থেকে নোয়াখালী রুটে দুটি আন্তঃনগর ট্রেন ও একটি মেইল ট্রেন চালু রেখেছে। এই ট্রেনগুলো লাকসাম জংশন হয়ে নোয়াখালী জেলার মূল স্টেশন মাইজদি কোর্ট পর্যন্ত চলাচল করে। আপনার যাত্রা আরামদায়ক করতে নিচের সময়সূচীটি (সকাল থেকে রাত পর্যন্ত) মনে রাখা জরুরি।
| ট্রেনের নাম ও নম্বর | কুমিল্লা ছাড়ে | লাকসাম জংশনে পৌঁছায় | নোয়াখালী (মাইজদি) পৌঁছায় | উপলব্ধ ক্লাস |
|---|---|---|---|---|
| উপকূল এক্সপ্রেস (৭৫১) | ০৬:১০ | ০৬:৫০ | ০৮:৩০ | স্নিগ্ধা, শোভন, চেয়ার |
| নোয়াখালী এক্সপ্রেস (৭২৩) | ১০:২৫ | ১১:১০ | ১৩:০০ | স্নিগ্ধা, শোভন, চেয়ার |
| লাকসাম কমিউটার (৫৫) | ১৪:৪০ | ১৫:৩০ | ১৭:৪৫ | শোভন, চেয়ার (মেইল ট্রেন) |
| ঢাকা মেইল (৩১) (সংযোগ) | ২২:১৫ (রাত) | ২৩:০০ | ০০:৪০ (মধ্যরাত) | শোভন, সুলভ |
উল্লেখ্য, নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও উপকূল এক্সপ্রেস প্রতিদিন চলাচল করে, কিন্তু লাকসাম কমিউটার শুধু শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন চলে। রাতের ঢাকা মেইল ট্রেনটি কুমিল্লা থেকে নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে ছাড়লেও এটি মূলত ঢাকা থেকে আসা একটি মেইল ট্রেন, যা লাকসাম হয়ে নোয়াখালী যায়। সময়সূচী হঠাৎ পরিবর্তন হতে পারে, তাই যাত্রার আগে রেলওয়ের হটলাইন বা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট চেক করে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।
নোয়াখালী যাওয়ার ট্রেনের ভাড়া তালিকা (২০২৬)
কুমিল্লা থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৬০-৬৫ কিলোমিটার (লাকসাম হয়ে)। এই রুটে ভাড়া নির্ভর করে ট্রেনের ক্লাস ও ধরনের উপর। নিচে ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা দিচ্ছি, যা আমি গত মাসে কুমিল্লা স্টেশন থেকে সংগ্রহ করেছি।
| ট্রেনের নাম | স্নিগ্ধা (এসি) | শোভন চেয়ার | সুলভ (সাধারণ) |
|---|---|---|---|
| উপকূল এক্সপ্রেস | ২১৫ টাকা | ৯৫ টাকা | নেই |
| নোয়াখালী এক্সপ্রেস | ২২৫ টাকা | ১০০ টাকা | নেই |
| লাকসাম কমিউটার | নেই | ৬৫ টাকা | ৪৫ টাকা |
| ঢাকা মেইল (সংযোগ) | নেই | ৭০ টাকা | ৪০ টাকা |
উল্লেখ্য, ভাড়া পুনরায় সংশোধন করা হতে পারে। বিশেষ করে শীতকালীন বা ঈদ মৌসুমে অস্থায়ী ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনা ঘটে, যার জন্য রেলওয়ে আগেই বিজ্ঞপ্তি দেয়। আমি নিজে গত জানুয়ারিতে উপকূল এক্সপ্রেসে কুমিল্লা থেকে নোয়াখালী যাই, তখন স্নিগ্ধা ক্লাসের ভাড়া ছিল ২১০ টাকা, যা এখন ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
কুমিল্লা টু নোয়াখালী ট্রেনের টিকিট কেনার সহজ উপায়
ট্রেনের টিকিট কাটার সময় কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখলে আপনি সহজেই আসন পেতে পারেন। প্রথমত, আন্তঃনগর ট্রেনের (উপকূল ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস) টিকিট অনলাইনে (রেলওয়ের ওয়েবসাইট বা ‘রেল টিকিট’ অ্যাপ) ১০ দিন আগে থেকে কেনা যায়। তবে মেইল বা কমিউটার ট্রেনের টিকিট শুধু কাউন্টার থেকেই পাওয়া যায়। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, সকাল ৮টার আগে কুমিল্লা স্টেশনের কাউন্টারে গেলে আপনি অগ্রীম টিকিট পাবেন, কিন্তু জরুরি ভ্রমণ হলে ১-২ দিন আগে অনলাইন বুকিং দেওয়া ভালো। নোয়াখালী রুটে টিকিটের চাপ তুলনামূলক কম, তবে শুক্রবার ও রবিবার সন্ধ্যার ট্রেনে ভিড় বাড়ে।
ট্রেনের স্টপেজ ও যাত্রাপথের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
কুমিল্লা থেকে নোয়াখালী ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া জানার পাশাপাশি যাত্রাপথের স্টেশনগুলো বোঝা আপনার ভ্রমণকে সহজ করবে। সব ট্রেনই প্রথমে কুমিল্লা জংশন থেকে ছেড়ে লাকসাম জংশনে থামে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ জংশন স্টেশন। লাকসাম থেকে ট্রেনটি দক্ষিণ-পূর্বে মোড় নিয়ে নোয়াখালীর দিকে যায়।
- প্রধান স্টেশন: কুমিল্লা → লাকসাম জংশন → সোনাইমুড়ী → মাইজদি কোর্ট (নোয়াখালী)।
- মধ্যবর্তী স্টেশন: উপকূল ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস শুধু বড় স্টেশনগুলোতে থামে, যেমন লাকসাম ও সোনাইমুড়ী। তবে লাকসাম কমিউটার ছোট ছোট স্টেশনেও থামে, যার মধ্যে বেগমগঞ্জ ও চৌমুহনী উল্লেখযোগ্য।
- যাত্রা সময়: উপকূল এক্সপ্রেসে সময় লাগে প্রায় ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট (সকাল ৬:১০ থেকে ৮:৩০), আর কমিউটারে প্রায় ৩ ঘণ্টা।
- নির্ভরযোগ্যতা: ২০২৬ সালে রেললাইনের কিছু অংশে আপগ্রেডেশন কাজ চলছে, ফলে সকালের ট্রেনগুলো সাধারণত সময়মতো চলে, কিন্তু বিকেলের ট্রেনে ১০-১৫ মিনিট বিলম্ব হতে পারে।
আমার এক ভ্রমণসঙ্গী জানান, নোয়াখালী এক্সপ্রেসে লাকসামে নামার সময় ট্রেনের ঘোষণা দেওয়া হয়, কিন্তু যদি আপনি সোনাইমুড়ীতে নামতে চান, তাহলে টিকিটে সেটা উল্লেখ করে নেওয়া ভালো, কারণ টিটি মাস্টার সময়মতো আসন চেক করতে পারেন না।
সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক ট্রেন কোনটি?
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও যাত্রীসেবার মান বিবেচনায়, কুমিল্লা থেকে নোয়াখালী যাওয়ার জন্য উপকূল এক্সপ্রেস সবচেয়ে ভালো পছন্দ। কারণ এটি সকালের ট্রেন, যাত্রা শেষে আপনি সারাদিন নোয়াখালীতে কাটাতে পারবেন। আর স্বল্প খরচে ভ্রমণের জন্য লাকসাম কমিউটার মেইল ট্রেনটি আদর্শ, যদিও এতে সময় বেশি লাগে। নীচে একটি তুলনামূলক ছক দিচ্ছি:
| বৈশিষ্ট্য | উপকূল এক্সপ্রেস | নোয়াখালী এক্সপ্রেস | লাকসাম কমিউটার |
|---|---|---|---|
| অগ্রিম বুকিং | হ্যাঁ (অনলাইন) | হ্যাঁ (অনলাইন) | না (শুধু কাউন্টার) |
| এসি সেবা | স্নিগ্ধা | স্নিগ্ধা | নেই |
| যাত্রাবিরতি | ২টি স্টেশন | ২টি স্টেশন | ৫-৬টি স্টেশন |
| স্বাচ্ছন্দ্য | উচ্চ | মাঝারি | নিম্ন (ভিড় বেশি) |
এই ছক বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, যারা আরাম চান তাদের জন্য উপকূল এক্সপ্রেস সেরা, আর যারা বাজেট নিয়ে ভাবছেন তাদের জন্য লাকসাম কমিউটার ভালো। তবে মনে রাখবেন, কমিউটার ট্রেনে আসন সংখ্যা সীমিত, তাই লাকসাম থেকে বোর্ডিং করার সময় আগে আসন নিতে পারলে ভালো হয়।
ট্রেন ভ্রমণে যাত্রীদের করণীয় ও সতর্কতা
কুমিল্লা টু নোয়াখালী ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া জেনেও কিছু ব্যবহারিক টিপস আপনার ভ্রমণকে নিরাপদ ও আনন্দদায়ক করবে। প্রথমত, ট্রেনে ওঠার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনার টিকিটে সঠিক স্টেশনের নাম লেখা আছে। নোয়াখালীর মূল স্টেশন মাইজদি কোর্ট, কিন্তু অনেক যাত্রী “নোয়াখালী স্টেশন” বলতে ভুল করেন, যেটি আসলে ‘নোয়াখালী জংশন’ নামে পরিচিত, কিন্তু মাইজদি কোর্টই শেষ স্টেশন।
দ্বিতীয়ত, কুমিল্লা স্টেশনে ট্রেন ছাড়ার ১৫ মিনিট আগে পৌঁছান, বিশেষ করে সন্ধ্যা ৬টার পর রেলওয়ে পুলিশের তৎপরতা বেড়ে যায় এবং দেরি করলে ট্রেন মিস করতে পারেন। আমার দেখা গেছে, কিছু যাত্রী অনলাইনে টিকিট কেটেও স্টেশনে এসে প্রিন্ট না করে ফোন দেখানোর কারণে কনফিউশনে পড়েন। এ ক্ষেত্রে রেলের অ্যাপ থেকে কিউআর কোড দেখালেই যথেষ্ট, কিন্তু মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল থাকলে অফলাইনে টিকিট সেভ করে রাখুন।
নোয়াখালী পৌঁছে স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থা
মাইজদি কোর্ট স্টেশন থেকে নেমে আপনার গন্তব্যে পৌঁছানো সহজ। স্টেশনের বাইরে রিকশা, অটোরিকশা ও বাস সহজেই পাওয়া যায়। নোয়াখালী জেলা শহরের ভেতরে যেতে রিকশা ভাড়া ২০-৩০ টাকা (দূরত্ব অনুযায়ী), আর সোনাইমুড়ী বা বেগমগঞ্জ যেতে বাস ভাড়া ১৫-২০ টাকা। তবে রাত হলে সতর্ক থাকবেন, কারণ স্টেশন চত্বরে শেষ রাতে লোকজন কম থাকে। আমি একবার রাত ১টায় নেমে অটোরিকশা পাইনি, তাই হেঁটে বাস স্ট্যান্ডে যেতে হয়েছিল।
কুমিল্লা ও নোয়াখালীর মধ্যে ট্রেনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
২০২৬ সালে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে যে কুমিল্লা-নোয়াখালী রুটে একটি নতুন আন্তঃনগর ট্রেন ‘বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেস’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যা সম্ভবত ২০২৭ সালের শুরুতে চালু হবে। এই ট্রেনটি সরাসরি কুমিল্লা থেকে লাকসাম হয়ে নোয়াখালী যাবে এবং সময় কমিয়ে আনতে পারে ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটে। তবে বর্তমানে বিদ্যুতায়িত রেললাইন স্থাপনের কাজ চলছে, যা ট্রেনের গতি বাড়াবে। খবরটি এখনও চূড়ান্ত নয়, কিন্তু যাত্রীদের জন্য এটি একটি আশার বিষয়, বিশেষ করে যারা দ্রুত ভ্রমণ করতে চান।
এছাড়াও, নোয়াখালী জেলার অন্যান্য স্টেশন যেমন চৌমুহনী ও বেগমগঞ্জের সংস্কার কাজ চলছে, যা যাত্রীদের সেবা উন্নত করবে। কুমিল্লা স্টেশনেও পার্কিং সুবিধা বাড়ানো হয়েছে, যাতে আপনার গাড়ি নিরাপদে রাখতে পারেন।
ট্রেন ভাড়া কমানোর টিপস ও বিশেষ ছাড়
যদি আপনি নিয়মিত যাত্রী হন, তাহলে রেলওয়ের মাসিক বা সাপ্তাহিক টিকিটের মতো ছাড়পত্রের সুযোগ নিতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, লাকসাম কমিউটারে ১০টি যাত্রার জন্য একটি কার্ড কিনলে ২৫% ছাড় পাওয়া যায়। তাছাড়া, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য ২৫-৫০% ছাড় রয়েছে, যা কাউন্টারে আবেদন করলে পাওয়া সম্ভব। আমার বাবা গত মাসে কুমিল্লা থেকে নোয়াখালী এক্সপ্রেসে বয়স্ক ভাড়ায় ৭৫ টাকায় শোভন চেয়ারে ভ্রমণ করেছেন, যা স্বাভাবিক ভাড়া থেকে ২৫ টাকা কম।
অনলাইন বুকিংয়ের সময় ‘প্রোমো কোড’ বা ‘ছাড়ের কোড’ সম্পর্কে রেলওয়ে মাঝে মাঝে ঘোষণা দেয়, বিশেষ করে পবিত্র ঈদ বা পূজার সময়। ২০২৫ সালের শেষে ‘ভ্রমণ বন্ধু’ অ্যাপে ৫% ছাড় দেওয়া হয়েছিল, যার সুযোগ নিয়ে অনেক যাত্রী উপকৃত হয়েছেন। সুতরাং, টিকিট কেনার আগে একটু খোঁজ নেওয়া ভালো।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
কুমিল্লা থেকে নোয়াখালী যাওয়ার সবচেয়ে সস্তা ট্রেন কোনটি?
সবচেয়ে সস্তা ট্রেন হলো লাকসাম কমিউটার (মেইল ট্রেন), যার শোভন চেয়ার ভাড়া ৬৫ টাকা ও সুলভ ভাড়া ৪৫ টাকা। তবে এই ট্রেনে সময় বেশি লাগে এবং ভিড় বেশি থাকে।
কুমিল্লা থেকে নোয়াখালী এক্সপ্রেস ট্রেন ছাড়ার সময় কত?
নোয়াখালী এক্সপ্রেস (৭২৩) কুমিল্লা থেকে প্রতিদিন সকাল ১০:২৫ টায় ছেড়ে যায় এবং লাকসাম হয়ে বিকাল ১:০০ টায় মাইজদি কোর্ট স্টেশনে পৌঁছায়। এই ট্রেনে স্নিগ্ধা ও শোভন চেয়ার ক্লাসের আসন পাওয়া যায়।
নোয়াখালী যাওয়ার ট্রেনে অনলাইনে টিকিট কাটা যায় কি?
হ্যাঁ, উপকূল এক্সপ্রেস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের টিকিট বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd বা ‘রেল টিকিট’ অ্যাপ থেকে কেনা যায়। তবে লাকসাম কমিউটার ও ঢাকা মেইলের টিকিট শুধু কাউন্টার থেকেই পাওয়া যায়।
কুমিল্লা থেকে নোয়াখালী ট্রেনে যেতে কত সময় লাগে?
উপকূল এক্সপ্রেসে প্রায় ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট, নোয়াখালী এক্সপ্রেসে ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট, আর লাকসাম কমিউটারে প্রায় ৩ ঘণ্টা সময় লাগে। রাতের ঢাকা মেইলে সময় ২৫-৩০ মিনিট বাড়তে পারে।
নোয়াখালী জেলার ভেতরে ট্রেনের শেষ স্টেশন কোনটি?
নোয়াখালী জেলায় ট্রেনের শেষ স্টেশন হলো ‘মাইজদি কোর্ট’। এই স্টেশনটি জেলা শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত, যেখান থেকে স্থানীয় পরিবহন সহজে পাওয়া যায়। অনেক যাত্রী এটিকে ‘নোয়াখালী স্টেশন’ বলে ডাকেন।
কুমিল্লা থেকে নোয়াখালী ট্রেনে শিশুদের ভাড়া কমানো হয় কি?
হ্যাঁ, ৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য কোনো টিকিট লাগে না। ৩-১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য পূর্ণ ভাড়ার ৫০% দিতে হয়। তবে এই সুবিধা শুধু কাউন্টারে টিকিট কেনার সময় দেওয়া হয়; অনলাইন বুকিংয়ে পূর্ণ ভাড়াই দিতে হয়।
ট্রেনের সময়সূচী পরিবর্তন হলে কোথায় জানতে পারব?
সর্বশেষ সময়সূচী জানতে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজ চেক করতে পারেন। এছাড়া কুমিল্লা স্টেশনের নোটিশ বোর্ডেও আপডেট দেওয়া থাকে। ২০২৬ সালে সময়সূচী পরিবর্তনের কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি।
কুমিল্লা টু নোয়াখালী ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া সংক্রান্ত এই সম্পূর্ণ নির্দেশিকা আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনায় সহায়ক হবে, আশা করি। আমি নিজে নোয়াখালীতে পরিবারের বাড়ি যাওয়ার জন্য এই রুটের ট্রেন নিয়মিত ব্যবহার করি, এবং দেখেছি সঠিক তথ্য থাকলে ভ্রমণ কতটা সহজ হয়। আপনার সুবিধার্থে একটি শেষ টিপস: ট্রেনে উঠার আগে একটু স্টেশন থেকে চা-পানীয় কিনে নেবেন, কারণ ট্রেনে সাধারণত কোনো ক্যান্টিন সার্ভিস নেই, বিশেষ করে কমিউটার ট্রেনে। শুভ ভ্রমণ!





